Why Do Research?

আমরা কেন গবেষণা করবো বা সমাজে কেন গবেষণা দরকার এই ব্যাপারটি নিয়েও একটি গবেষণা হয়েছে। গবেষণাটি করেছেন W. Lawrence Neuman তিনি বলেছেন যে, সমাজে যখন গবেষণা হয় না তখন সমাজে গবেষণার পরিবর্তে চারটি জিনিস বা অল্টারনেটিভ বিরাজ করে। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশে গবেষণা হয় না তো তারপরেও সমাজ তো আর থেমে নেই। সমাজ তো চলতেছে। যে দেশে বা সমাজে গবেষণা নেই সে সমাজ মূলত গবেষণার চারটি অল্টারনেটিভের উপর টিকে আছে। তো তিনি প্রমাণ করেছেন যে, কোন সমাজ বা দেশ চলার ক্ষেত্রে এই চারটি অল্টারনেটিভ যথেষ্ট নয়।
  

 ALTERNATIVES TO SOCIAL SCIENCE RESEARCH

1. Personal Experience and Common Sense

যে সমাজে গবেষণা হয় না সে সমাজের লোক কমন সেন্স অথবা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চলে।

§  Overgeneralization: যে সমাজে গবেষণা হয় না সে সমাজে Overgeneralization টা বেশি হয়। অর্থাৎ সবাইকে Generalize করে ফেলার যে প্রবণতা সেটা বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ আমি বলে ফেললাম যে নোয়াখালির মানুষ ভালো না, রংপুরের মানুষ মফিজ, বগুড়ার মানুষ বাটপার বা সে অঞ্চলের মানুষ খারাপ বা আমার অঞ্চলের মানুষ ভালো। লম্বা মানুষ ভালো বা খাটো মানুষ খারাপ।

§  Selective observation: Selective observation এবং Overgeneralization প্রায় একই। অর্থাৎ আমি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির কিছু বিষয়বস্তুকে না জেনে না প্রমাণ করে শুধুমাত্র আন্দেজের উপর বা সমাজ কি বলে তার উপর ডিপেন্ড করে মন্তব্য করে ফেলছি।

§  Premature closure: যে সমাজে গবেষণা হয় না সে সমাজে Premature closure বিরাজ করে। আপনি কোন জাজমেন্ট অথবা কোন সিদ্ধান্তে পৌছাচ্ছেন কিন্তু ওই সিদ্ধান্তের পিছনে কোন সায়েন্টিফিক স্ট্যান্ডার্ড বা পর্যাপ্ত পরিমাণে ডেটা নেই। অর্থাৎ আপনি ম্যাচিউর হওয়ার পূর্বেই সিদ্ধান্তে পৌছে যাচ্ছেন। Don’t judge a book by its cover – ব্যাপারটি ঠিক এরকম।

§  Halo effect: যে সমাজে গবেষণা হয় না সে সমাজে Halo effect বেশি। যখন আপনি কোন কিছুকে মূল্যায়ন করতেছেন তার জনপ্রিয়তা দিয়ে, অর্থাৎ আপনি নিউট্রালি মুল্যায়ন না করে বায়াসড চিন্তা ভাবনা করছেন, এই ব্যাপারটিকেই Halo effect বলে। আমাদের সমাজে এরকম উদাহরণ অনেক আছে। উদাহরণস্বরূপ: সাদাত হোসেনের বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় দেখে আমি যদি ভেবে বশি যে সাদাত হোসেন হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে ভালো লেখক। তাহলে ব্যাপারটি ভুল হয়ে যাবে। অর্থাৎ আপনি জনপ্রিয়তা কে স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে যাচ্ছেন। আরেকটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে যেমন হিরো আলমের ফেইসবুক ফলোয়ার বেশি দেখে যদি ভেবে বসেন যে হিরো আলম অনেক বড় একজন শিল্পী তাহলে ব্যাপারটি হয়ে যাবে Halo effect.

§  False consensus: আমার ধারণা যদি এমন হয় যে আমি যেটাকে সঠিক ভাবছি সবাই মনে হয় সেইটাকেই সঠিক ভাবছে অথবা যেটাকে বা যে ব্যাপারগুলোকে সমর্থন করছি সবাই মনে হয় সমর্থন করছে এইটিকে বলা হয় False consensus অর্থাৎ একপ্রকার মিথ্যা ধারণার উপর ভিত্তি করে আমি আগাচ্ছি।

 

2. Experts and Authorities

যে সমাজে গবেষণা হয় না সে সমাজ আসলে এক্সপার্টস এবং অথোরিটির মতামত বা সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে চলে। এখন প্রশ্ন হতে পারে যে তারা তো অভিজ্ঞ তাহলে তাদের মতামত বা সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে চললে ক্ষতি কি? একজন এক্সপার্ট কিন্তু সব বিষয়ে এক্সপার্ট নাও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে একজন সাহিত্যিক কে যদি আপনি নির্বাচন নিয়ে টকশো হচ্ছে সেখানে আমন্ত্রণ জানালেন, কোথাও স্বাস্থ্য বিষয়ক সেমিনার হচ্ছে সেখানেও তিনি বক্তব্য রাখলেন আবার দেশের বিভিন্ন সেক্টরের মূল্যবান সিদ্ধান্ত গুলো তিনি নিচ্ছেন। প্রথমেই যে কথাটি বললাম যে, তিনি কিন্তু সকল বিষয়ে সমান ভাবে দক্ষ নাও হতে পারেন কিন্তু তিনি দেশের ভালো কোন পজিশনে থাকার প্রেক্ষিতে আমরা তার সকল কথা বা সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আগাচ্ছি। আবার অনেক সময় এক্সপার্টস দের নিজেদের মদ্ধ্যেও কোন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে মতবিরোধ থাকে অর্থাৎ অনেক সময় তারা কোন এক বিষয়ে ১০০% মত দিতে পারেন না। যেমন কোন এক হেলথ এক্সপার্ট বলছেন ডায়েট চার্ট কেমন হওয়া উচিৎ, আবার তাদের মদ্ধ্যেই অন্য আরেক এক্সপার্টস বলছেন যে না ডায়েট চার্ট আসলে এমন হওয়া উচিৎ না আমি যেমনটি বলছি ঠিক সেমনটি হওয়া উচিত। এখন এক্সপার্টসদের মদ্ধ্যেই যদি এরকম মত বিরোধ থাকে যে একজন বলছে ঠিক আরেকজন বলছে ভুল। তাহলে আমার করা উচিত? আমার উচিত হবে তাদের কথা না শুনে বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরীক্ষিত গবেষণা আসলে কি বলে সেইটা শোনা উচিত। আরও একটা সমস্যা হলো যে সমাজে গবেষণা হয় না সে সমাজের মানুষরা আসলে বুঝতে পারে না যে এক্সপার্টস রা কোনটি ভুল বলেছেন অথবা কোনটি ঠিক বলেছেন। বাস্তবে ঠিক ভুল যাই হোক আমরা তাদের সব কথা বা সিদ্ধান্ত ঠিক ভেবে সামনে এগিয়ে যাই।


3. Popular and Media Messages

যে সমাজে গবেষণা হয় না সে সমাজের মানুষ মিডিয়া বা মেসেজের দ্বারা প্রভাবিত হয়। মিডিয়া বা মেসেজ অনেক সময় ভূল তথ্য দেয় কিন্তু গবেষণাবিহীন সমাজ সেগুলোর উপর প্রভাবিত হয়ে বা সেগুলিকে যাচাই বাচাই না করে সব সত্য ভেবেই এগিয়ে যায়। আবার অনেক সময় মিডিয়া বা মেসেজ দরাকারির থেকে অপ্রয়োজনীয় অনেক নিউজ দেয়, সত্যিকার অর্থে যে নিউজগুলোর সমাজে একদম দরকার নেই। উদাহরনস্বরূপ বলা যায় যে সেদিন নিউজে দেখলাম, অমুক নায়ক ঘুম থেকে দেরি করে উঠেছে, নুসরাত ফারিয়া নতুন জুতা কিনলেন! এখন মানুষ এই অদরকারী পপুলার জিইস নিয়ে পড়ে থাকবে লাইক কমেন্ট শেয়ার করবে এবং প্রোডাকটিভ বা দরকারী অন্য কোন বিষয়বস্তু থেকে তার ফোকাস হারিয়ে ফেলবে।


4. Ideological Beliefs and Values

যে সমাজে গবেষণা হয় না সে সমাজ এর মানুষ মূলত আইডিওলজিকাল বিলিফ এবং ভ্যালুর দ্বারা প্রভাবিত হয়। অর্থাৎ মানুষ সত্যের থেকে বেশি প্রায়োরিটি দেয় তার কথা যাকে সে আদর্শ মনে করে বা যার কথা সে মানে। উদাহরণস্বরূপ কোন এক পীর সাহেব বললেন যে থানকুনি পাতার রস খেলে করোনা ভাইরাস সেরে যায়। এখন যারা ওই পীর সাহেবকে আদর্শ মনে করেন বা তাকে মেনে চলেন তারা সত্য মিথ্যা যাচাই না করেই থানকুনি পাতার রস খাওয়া শুরু করবে। বা কোন ধর্মীয় প্রিয় বক্তা যা বললেন আমি যাচাই না করেই সব মেনে নিলাম বা বিশ্বাস করে এগিয়ে গেলাম। অর্থাৎ আমরা সত্যের চেয়ে আমাদের আইডল বা আদর্শ কে দাম দিচ্ছি এবং এই অন্ধকারের উপর দাঁড়িয়ে সমাজ এগিয়ে চলছে।


W. Lawrence Neuman প্রমাণ করেছেন যে, যে সমাজে এই ব্যাপারগুলি যত বেশি সেই সমাজে গবেষণা তত কম।

পাঠকদের কাছে একটি প্রশ্ন থাকলো উপরের আলোচনা বা বিষয়বস্তু গুলো বাংলাদেশের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?

সত্যিকার অর্থে কোন সমাজ যদি গবেষনা বিমুখ হয় বা গবেষণায় বিশ্বাসী না হয় বা গবেষণার গুরুত্ব না বুঝে গবেষণা করা ছাড়াই এগিয়ে চলে, তাহলে আমি বললাম সে সমাজ বা সেই দেশ অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে।

এই আলোচনার পরেও যদি এখন যদি কেউ মনে করেন যে গবেষণা আমি কেন করবো বা একটা সমাজের জন্য গবেষণা কেন গুরুত্বপূর্ণ? তাহলে আমি বলবো আপনি আবার এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে পড়া শুরু করুন।



—---------------

Posted by,

Md. Nayeem Hasan Pramanik

nayeem.econ@gmail.com